দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁ জেলায় হঠাৎ করে সংক্রামক রোগ হাম ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় আটজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, আর ঢাকায় বসবাসকারী নওগাঁর এক শিশু এই রোগে মারা গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় আটজনের শরীরে ভাইরাসটি নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তরা নওগাঁ সদর, পোরশা, নিয়ামতপুর, সাপাহার, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, রোগীর চাপে নাজেহাল অবস্থা। ২০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৭০ জন শিশু। শয্যা সংকটে অনেক রোগীকেই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একই বিছানায় দুই থেকে তিনজন রোগী রাখার অভিযোগও করেছেন স্বজনরা, যা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
রোগীদের স্বজনরা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, জ্বর, ডায়রিয়া ও হামের রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি থার্মোমিটার না থাকায় হাত দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা অনুমান করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ইনচার্জ জেনাত রেহেনা জানান, গত কয়েকদিন ধরে জ্বর, কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে একজন সন্দেহভাজন রোগীকে আলাদা আইসোলেশন কক্ষে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে এ ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হবে।
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় আশপাশের প্রায় ৪০টি বাড়ির শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পোরশা, সাপাহার, মান্দা ও আত্রাই উপজেলায় সন্দেহভাজন রোগী পাওয়ায় সেখানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আগামী মে মাসে শিশুদের জন্য এমআর টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে।
হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জে আই